June 24, 2021, 2:39 am

creativesoftbd.com

আ. লীগে দলীয় নেতৃত্বে ক্ষমতাবান হয়ে উঠছেন ৫ নেতা

ঢাকা: গেল ১০ বছর ধরেই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার এবং দলকে আলাদা করার নীতি এবং কৌশল নিয়ে এগুচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে স্বপ্ন ছিলো- রাজনৈতিক দল ও সরকার আলাদা থাকবে। সেই কৌশলের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অনেকদূর এগিয়ে গেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দলের স্বার্থে মন্ত্রীত্ব ত্যাগ করেছিলেন। দলের জন্য সার্বক্ষণিক কাজ করেছেন। সে সময় আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে সুস্পষ্টভাবে ছিলো যে, যারা মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করবেন তারা দলের নেতৃত্বে থাকবেন না।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর আওয়ামী লীগের এক দু:সময় এসেছে। ১৯৮১ সালে এক ভঙ্গুর বিধ্বস্ত দলের দায়িত্ব তুলে নেন শেখ হাসিনা। তারপর তিল তিল করে তিনি দলটিকে গুছিয়েছেন। এখন আওয়ামী লীগ টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে। এই সময় শেখ হাসিনা দল এবং সরকারকে আলাদা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনি গত দুইটি কাউন্সিলে ক্রমশ যারা মন্ত্রী এবং সরকারে আছেন তাদেরকে দলের নেতৃত্ব থেকে বাদ দিয়েছেন।

সর্বশেষ কাউন্সিলে এটি পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়ে উঠে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ছাড়া মাত্র ৪জন দল এবং সরকারে ছিলেন। এরা হলেন ওবায়দুল কাদের, দলের সাধারণ সম্পাদক। প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি এবং যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তবে তারা দলের নেতৃত্বে থাকলেও করোনা সংকটের সময় দেখা যাচ্ছে দল পরিচালনার জন্য একটি ভিন্ন ধারা তৈরী করা হয়েছে। শেখ হাসিনার নির্দেশ এবং পরামর্শেই আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিষয়গুলো দেখভাল করছেন কিছু নেতারা, যারা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন।

আর এই সময় অসুস্থতার কারণে দলের সাধারণ সম্পাদক ঘরবন্দি রয়েছেন। তিনি ঘর থেকে বিবৃতি দিচ্ছেন। সারাদেশের তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক তৎপরতা পরিচালনা করা এবং সারাদেশের সংগঠনকে চাঙ্গা রাখার দায়িত্বে ক্রমশ সরকারের বাইরে থাকা নেতৃবৃন্দকে সচল এবং সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। তাদেরকেই আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা রকম নির্দেশনা, পরামর্শ দিচ্ছেন- এই বাস্তবতায় তারা ক্রমশ দলের ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছেন।

এরাই এখন সারাদেশে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাদেরকে করোনা সম্বন্ধে নির্দেশ দিয়েছেন, বিশেষ করে ত্রাণ বিতরণ, মানুষকে সচেতন করাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক উদ্যোগের ব্যাপারে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছেন আওয়ামী লীগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতা যারা সরকারে নেই।

এদের মধ্যে রয়েছেন-

জাহাঙ্গীর কবির নানক: আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। যিনি করোনা সংক্রমনের শুরু থেকেই দলীয় কার্যালয়ে বসছেন এবং ধীরে ধীরে দলের কার্যক্রমকে সক্রিয় করছেন। সারাদেশে যেন নেতাকর্মীরা দুর্গত মানুষের পাশে দাড়ায়, ত্রাণ বিতরন করে সেজন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম: আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম। করোনা সঙ্কটের শুরু থেকেই তিনি দলের নেতাকর্মীদের, বিশেষ করে বিভিন্ন অঙ্গসহযোগি সংগঠনগুলো যেন কাজ করে, গরীব মানুষের পাশে দাঁড়ায় সে ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে ধান কাটার সময় আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশনা অনুযায়ী অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিলেন কৃষকদের সঙ্গে তারাও যেন কাজ করে।

আব্দুর রহমান: আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমানকেও নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে দেখা যাচ্ছে। জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং বাহাউদ্দীন নাছিমের সঙ্গে তিনিও দলীয় কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছেন।

মির্জা আজম: মির্জা আজম এমপি এলাকাতেই করোনা মোকাবিলায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু ঢাকাতেও তিনি সার্বক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করছেন। সারাদেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের যে বিভিন্ন সমস্যা, আওয়ামী লীগের মধ্যেও যে অনেকের অভাব অনাটন রয়েছে সে বিষয়গুলো তিনি দেখভাল করছেন। সারাদেশে সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে এই সাংগঠনিক সম্পাদক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

বিপ্লব বড়ুয়া: আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা বিপ্লব বড়ুয়া। একাধারে দলের তথ্য সম্পাদক, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী- এই বিবেচনায় তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে দলের যোগসূত্র হিসেবে কাজ করছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দলের সিদ্ধান্তও তিনি সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সারাদেশে যেন তা প্রতিপালিত হয় তা লক্ষ্য রাখার কাজটিও করছে আওয়ামী লীগের এই তরুণ নেতা।ক্রমশ আওয়ামী লীগের এই ৫ নেতা ক্ষমতাবান হয়ে উঠছেন। সাংগঠনিক বিষয়গুলো দেখভালের জন্য তারাই দলের মধ্যে নিউক্লিয়াস হয়ে উঠেছে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানাচ্ছে।

creativesoftbd.com

     আজকের খবর বিডি কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  

জরুরি সেবা ফোন নাম্বার