June 17, 2021, 5:26 pm

creativesoftbd.com

গণহত্যার বিচার শুরু গণহত্যা দিবসেই

ঢাকা: ১৯৭১ সালের এই দিনে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের হামলা চালিয়ে বিভীষিকাময়  এক অধ্যায়ের সূচনা করে।  স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর সেই দিনেই গণহত্যার বিচার শুরু করে বাংলাদেশ।

এখন থেকে আট বছর আগে জাতীয় গণহত্যা দিবসের গণহত্যার বিচার শুরু  করে আওয়ামীলীগ সরকার। যা ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিচার সংশ্লিষ্টরা।

২০১০ সালের ২৫ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে বিতর্কিত করতে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানাভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। সকল ষড়যন্ত্র ও বাধা উপেক্ষা করে গত ৮ বছরে জামায়াত-বিএনপির প্রভাবশালী নেতাসহ ৩১টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা ৭২ জন।

ট্রাইব্যুনালের আট বছর পূর্ণতার দিনে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি নিয়ে কথা বলেছেন ট্রাইব্যুনালের আইনজীবীরা।

যুদ্ধাপরাধে জড়িতদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তিনি বলেন, যেখানে অসংখ্য মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে  সেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাক্ষ্য-প্রমাণের মতো জটিল কাজ সম্পন্ন করে ৩১ টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে । যা ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় একটা মাইলফলক।

তিনি বলেন, মামলার প্রয়োজন অনুযায়ী বর্তমানে একটি ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। এর আগে দুটি ট্রাইব্যুনালে বিচার হয়েছে। প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

যুদ্ধাপরাধে দন্ডিতদের সম্পদ বাজেয়াপ্তে আইন প্রনয়ণ করছে সরকার এ বিষয়ে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতরা অপরাধও করবে আবার সম্পদও ভোগ করবে এটা হতে পারে না।

তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আনা ৭টি মামলা আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হয়েছে। দন্ডও কার্যকর করা হয়েছে। আরো ৩টি মামলা কার্যতালিকায় এসেছে। পর্যায়ক্রমে এসব মামলা নিষ্পত্তি হবে।

তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বলেন, এত দীর্ঘ সময় পর বিচার শুরু করে তা সম্পন্ন করা অনেক বড় একটা কাজ। একাত্তরের পরে যখন বিচার শুরু হয় তখনই ‍অনেক যুদ্ধাপরাধী নেপাল হয়ে পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যে পালিয়ে যায়। ওই সময় নেপালের সঙ্গে পাকিস্তানের কুটনৈতিক সস্পর্ক ভাল ছিল।আর আমাদের দেশীয় তৃণমুলে যেসব রাজাকাররা অপরাধ করেছে এক জায়গা কিন্তু তারা বর্তমানে অবস্থান করছে ভিন্ন এক জায়গায়। এসব আসামিদের তথ্য খুজে বের করা বেশ কঠিন কাজ। তারপরও সেই কঠিন কাজটিই করে যাচ্ছে তদন্ত সংস্থা। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত সংস্থা কাজ করে যাবে বলেও আশা করেন তিনি।

প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, আট বছরে ট্রাইব্যুনাল থেকে ৩১টি মামলা নিষ্পত্তি করেছি। এর মধ্যে শতভাগই সাজা হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঠিক ৩৯ বছরের মাথায় ২০১০ সালের ২৫ মার্চ থেকেই ট্রাইব্যুনালের যাত্রা শুরু হয়। সুতরাং বলা যায় ২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনে একটি ভিন্ন অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখন থেকে ২৫ মার্চ শুধু কালো রাত্রি নয়, সেইদিন থেকে আলোর ঝলকও দেখতে পাবো।

তিনি বলেন, আজ আমরা স্বনির্ভর জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছি। আমরা অর্থনৈতিকভাবে যেমন সামনের দিকে এগিয়েছি। বিচারেও আমরা সামনে আছি। তবে গত বছর থেকে এখন পর্যন্ত একটি মামলাও নিষ্পত্তি না হওয়ায় অপ্রাপ্তির একটি জায়গা রয়ে গেছে। আশা করছি চলতি বছরে আপিলের এসব মামলা শুনানির উদ্যোগ  নেবেন অ্যাটর্নি জেনারেল। কেননা এমনিতেই ৪০ বছর পর বিচার শুরু হয়েছে। এখন যদি আপিল নিষ্পত্তি হতে বছর বছর কেটে যায় তাহলে বিচারপ্রার্থীরা আশাহত হবেন।

একই সঙ্গে পলাতক আসামিদেরও ফিরিয়ে আনার উদ্দ্যোগ নেবে বলেও আশা করেন এই আইনজীবী।

ট্রাইব্যুনালের মামলার পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, এখন পর্যন্ত তদন্ত সংস্থায় অভিযোগ এসেছে ৭২৮টি, এর মধ্যে প্রাথমিক যাচাই বাছাই করে বর্তমানে তদন্তাধীন আছে ৩০টি অভিযোগ। আর ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন আছে ২৩টি মামলা। রায় হয়েছে ৩১টি । রায়ের জন্য অপেক্ষায় আছে একটি মামলা।

আপিলে চূড়ান্ত ছয়টি রায়ের পর জামায়াতের প্রাক্তন আমীর মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, প্রাক্তন দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামায়াতের প্রাক্তন নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আপিল ও আপিল রিভিউ’র আরেক রায়ে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা মৃত্যুদন্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে দন্ডিত আপিল চলাকালীন দুই আসামী জামায়াত নেতা গোলাম আযম ও বিএনপি নেতা আবদুল আলীম মারা গেছেন।

২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল, তদন্তকারী সংস্থা ও প্রসিকিউশন টিম গঠন করা হয়। প্রথমে ১টি ট্রাইব্যুনালে এ বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে এ বিচারকে ত্বরান্বিত করতে ২০১২ সালের ২২ মার্চ আরো একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।

creativesoftbd.com

     আজকের খবর বিডি কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  

জরুরি সেবা ফোন নাম্বার