June 17, 2021, 3:00 pm

creativesoftbd.com

জীবিত হয়ে বাড়ি ফিরল ২৯ দিন আগে ‘খুন’ হওয়া সেই মাদ্রাসাছাত্র!

ভৈরবের জাসিমুন রহমান জসিম (১৩) হত্যার খবরের ২৯ দিন পর অবশেষে মায়ের কোলে ফিরেছে। তাকে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

শনিবার রাতে তাকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরপর  রবিবার সকালে ভৈরব থানায় আনা হয়। সোমবার বিষয়টি গণমাধ্যমে জানাজানি হয়।

সন্তান ফিরে পাওয়ায় আনন্দের শেষ নেই মা রাবেয়া বেগমের। রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছে যে জাসিমুলকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর থেকে লাশের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাব চিন্তাও করিনি।’

এরআগে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর কমলপুর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র জসিম বাসা থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। সে ভৈরব পৌর এলাকার এরফানুল রহমানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, নিখোঁজ হওয়ার পর ঢাকার এক মাদ্রাসাছাত্র তার বাবার কাছে মোবাইলে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে ওই নিখোঁজ জসিমের বাবা বাদী হয়ে ভৈরব থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইলফোন ট্র্যাকিং করে অভিযুক্ত অপহরণকারীকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চট্রগ্রামের খুলশী থানার লালখান বাজারের আমিন সেন্টার এবাদত খানার ইমাম মো. খোরশেদ আলম মুছাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

খোরশেদ আলম মুছা পুলিশকে জানান, ‘বলৎকারে ব্যর্থ হয়ে ওই ছাত্রকে গলাটিপে ‘হত্যা করে’ তার লাশ বস্তাবন্দি করে কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেন তিনি। কিশোরগঞ্জ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর দুই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠান বিচারক।’

তারপর থেকেই জসিমের লাশ খুঁজতে থাকে পুলিশ ও তার পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন থানায় তার ছবি পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরিবারের সদস্যরাও তাকে জীবিত বা তার লাশ পাওয়ার আশায় গত একমাস ধরে চট্টগ্রাম এলাকায় ঘুরছিলেন।এরই মধ্যে শনিবার বিকালে উখিয়া থানার পুলিশ মাদ্রাসাছাত্র জসিমকে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেখতে পায়। ছবির সঙ্গে তার চেহারার মিল পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ভৈরব থানায় খবর দেয়। রবিবার দুপুরে পুলিশ তাকে সেখান থেকে এনে কিশোরগঞ্জ আদালতে পাঠায়।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে মাদ্রাসাছাত্র জসিম জানায়, ‘অপহরণকারী তামিম চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ফুসলিয়ে তাকে ইমাম মুছার কাছে রেখে আসে। পরে ইমাম মুছা তাকে বলৎকারের চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এতে ব্যর্থ হয়ে মুছা তাকে গলাটিপে ধরলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। তার পরের ঘটনা সে আর কিছুই বলতে পারছে না। উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সে কখন কীভাবে এলো ঘটনার কিছুই মনে পড়ছে না মাদ্রাসাছাত্র জাসিমুন রহমান জসিমের। জবানবন্দি দেয়ার পর জসিমকে তার বড় ভাইয়ের জিম্মায় জামিন দিয়েছেন আদালত।’

জাসিমুলের বড় ভাই নাইমুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যার কথা জানার পর আমরা লাশের খোঁজে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। পুলিশও তল্লাশি চালাচ্ছিল। কয়েক দিন আগে চট্টগ্রামের এক ব্যক্তি জাসিমুলের ছবি পাঠায়। এরপর আমরা খোঁজ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে জাসিমুলকে শনাক্ত করি।’

ভৈরব থানার ওসি মো. মোখলেছুর রহমান জানান, ‘পুলিশ জসিমের লাশ পাওয়ার চেষ্টায় ছিল। কিন্তু তাকে জীবিত পাওয়া যাবে আমরা কখনও ভাবতে পারিনি। সত্যিই এটি একটি বিরল ঘটনা।’

creativesoftbd.com

     আজকের খবর বিডি কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  

জরুরি সেবা ফোন নাম্বার