June 21, 2021, 7:58 pm

creativesoftbd.com

না ফেরার দেশে চলে গেলেন বীরপ্রতীক হামিদুল হক

টাঙ্গাইলের সখীপুরের কালিয়া ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের বীর প্রতীক হামিদুল হক (৭৪) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে দিন কাটছিল এ বীর যোদ্ধার।

গত ১ এপ্রিল হামিদুল হকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে (ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়। তাকে কৃত্রিম শ্বাসনালী দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ১০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও ৪ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার বাদ জোহর সখীপুর পিএম পাইলট মডেল স্কুল এন্ড কলেজে প্রথম জানাজা, দুপুর তিনটার দিকে কচুয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় জানাজা এবং বিকেল ৪টার দিকে কে জি কে উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

জানাজায় মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের লোকজন অংশগ্রহণ করবেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কীর্তনখোলায় পারিবারিক গোরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হবে।

গত ২৫ মার্চ হামিদুল হকের অসুস্থতা নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনটি ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজের নজরে আসলে বীর প্রতীকের চিকিৎসার দায়িত্বভার নেন তিনি।

পরে গত ২৭ মার্চ ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় হামিদুল হককে। গত ২৮ মার্চ হামিদুল হকের শারীরিক পরীক্ষা করা হলে ধরা পড়ে নানা ধরনের রোগ। তার শরীরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিজনিত সমস্যা, পটাসিয়ামের পরিমাণ কম থাকা, ফুসফুসে পানি জমে ঠাণ্ডা লাগা, শ্বাস-কষ্টজনিত রোগ ও ফুসফুস ইনফেকশনের সমস্যা ছিল।

১৯৭১ সালের ৫ মার্চ ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন হামিদুল হক বীর প্রতীক।  উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শোনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুস সামাদের হলে উঠলেন তিনি। আবদুস সামাদ তার বাল্যবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার জন্য ৭ মার্চ ভোর বেলা চলে গেলেন রেসকোর্স ময়দানে। খুব কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে উদ্বুদ্ধ হলেন।

হামিদুল হক ১৯৭১ সালে স্থানীয় কচুয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে। দেশের অভ্যন্তরে টাঙ্গাইলে গঠিত কাদেরিয়া বাহিনীতে যোগ দিয়ে বেশ কয়েকটি সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করেন তিনি। পাশাপাশি কাদেরিয়া বাহিনীর সহকারী বেসামরিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধে সাহস ও বীরত্বের জন্য হামিদুল হককে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৩ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী তার বীরত্ব ভূষণ নম্বর ৪২২।

দীর্ঘ কর্মময় জীবনে এ বীর প্রতীক শিক্ষকতা করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। শিক্ষিত করেছেন কত শত মানুষকে। অর্থ-সম্পদের পেছনে ছোটেননি কখনো। চাননি তেমন কিছুই। সবার কাছ থেকে পেয়েছেন সম্মান-শ্রদ্ধা। তাতেই তুষ্ট ছিলেন। ১৯৯০ সালে সখীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হন।

এদিকে, বীর প্রতীক হামিদুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, সখীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শওকত শিকদার, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, সখীপুর প্রেসক্লাব, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

creativesoftbd.com

     আজকের খবর বিডি কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  

জরুরি সেবা ফোন নাম্বার