June 24, 2021, 3:47 am

creativesoftbd.com

প্রধানমন্ত্রী বললে পদত্যাগ করব : শাজাহান খান

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বললে আমি পদত্যাগ করব। বিএনপির কথায় আমি পদত্যাগ করব না। কারণ জনগণ আমার পদত্যাগ চায়নি, ছাত্ররাও আমার পদত্যাগ চায়নি। তবে জনগণ চাইলে আমি পদত্যাগ করব।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আপনি পদত্যাগ করবেন কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, আমি পদত্যাগ করব না। এটা বিএনপির দাবি। বিএনপির কথায় আমি পদত্যাগ করব কেন? প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলে পদত্যাগ করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বললে আমি পদত্যাগ করব।

গত রোববার বিমানবন্দর সড়কে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর বাসচাপায় মৃত্যুর ঘটনা প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছে। গত চার দিন ধরে তারা রাজধানী ঢাকাকে কার্যত অচল করে রেখেছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের অনুরোধের পর আজো তারা রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে।

আরো পড়ুন :

মানুষের হাসি এত নির্লজ্জ ও অমানবিক হতে পারে: মির্জা ফখরুলনিজস্ব প্রতিবেদকগত রোববার রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ছাত্রদের আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। একইসাথে সরকারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে দলটি। নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের হাসি সম্পর্কে বলেন,  একজন মানুষের মুখের হাসি অমানবিক ও নির্লজ্জ হতে পারে। কিন্তু মানুষ এত নির্লজ্জ হতে পারে, তা চিন্তাও করতে পারি না। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি জানান।

সড়কে শিক্ষার্থী, মানুষ হত্যা ও কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ঘটনাগুলোর জন্য আমরা সরকারকে দায়ী করছি এবং অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি। নৌমন্ত্রী ও সড়কমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি না। আবারো দাবি করছি। সমস্ত সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি এজন্য যে, সরকার সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে এবং বিশৃঙ্খলা করছে। যার ফলে জীবনে কোন নিরাপত্তা কেউ কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না।

নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান যে বক্তব্য দিয়েছেন, এটা কোন রাজনৈতিক নেতা বলতে পারেন…! এটা সাধারণ মানুষও বলে না। দুই জন ছাত্র মারা গেল। এটা না বলে তিনি বলছেন, ভারতে ৩৩ জন মারা গেল- তাতে কোনো কথা হয় না। আর এখানে দুই জন মারা যাওয়ার ফলে এত কথা। কত নির্মম হতে পারে! এরপর তিনি হাসি দিয়েছেন। হাসির ব্যাখায় বলেছেন, তার মুখটাই হাসি-হাসি। যারা বাস চালাচ্ছে, তাদের অভিজ্ঞতা ও বয়স- কোনোটাই সড়ক পরিবহনের চালকের জন্য যোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

সরকারের সম্পূর্ণ ব্যর্থতার কারণে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে পড়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, কুর্মিটোলায় উড়াল সেতুর ঢালে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপা নিহত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। সেই আন্দোলনে ফলে সরকার বাধ্য হয়ে ছাত্রদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু মূল বিষয়গুলো নিরসন হয়নি। কারণ তাদের প্রথম দাবি হচ্ছে, শাজাহান খানের পদত্যাগ। কিন্তু এখনও তিনি পদত্যাগ করেননি!

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব। যিনি সড়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। কিন্তু সব তো একটা লোকের গায়ের ওপর দিয়েই চলে যাচ্ছে। সড়কমন্ত্রী কী তার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারেন? অস্বীকার করতে পারেন? এদেরকে লাইসেন্স ও গাড়ি চালনোর দায়িত্ব কে দিয়েছেন? এখানে কেনো কোনো ম্যানেজমেন্ট নাই। ঢাকার ট্রাফিকের কোন নিয়মই নাই। কারণ সরকারের কোন জবাবদিহিতা নাই।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত জিয়াউর রহমানের বিচার করতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনেকে অন্যদিকে প্রভাবিত করার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ওপরে আক্রমণ করেছেন। উনি বলেছেন, মুজিব হত্যার সাথে শহীদ জিয়া জড়িত। উনি তার বিচারটা করে যেতে পারলেন না। কিন্তু কোথাও আজ পর্যন্ত এই ঘটনার সাথে শহীদ জিয়ার জড়িত থাকবার কথা কেউ বলেননি। আর মুজিব হত্যার যে বিচারটা হয়ে গেল, সেই বিচারে কোথাও এবং কোনো স্বাক্ষীও জিয়াউর রহমানের নাম বলেননি।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরাও তো প্রশ্ন করতে পারি এবং মানুষ প্রশ্ন করতেই পারে, আপনি বিদেশ থেকে ফিরে আসলেন- তার ১৭ দিন পরে চট্রগ্রামে জিয়াউর রহমান নিহত হলেন। তাই এগুলো উচিত না। এগুলো ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসলে কেঁচো খুঁড়তে অনেক সাপ বেরিয়ে আসবে পারে। সুতরাং অযথা যেটা সত্য নয়, সেটাকে সত্য বানানোর চেষ্টা করবেন না। এটা কোন মতের যিনি রাষ্ট্রের দায়িত্বে আছেন, তার জন্য এটা সমচীন নয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ নয়া দিঘন্ত

creativesoftbd.com

     আজকের খবর বিডি কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  

জরুরি সেবা ফোন নাম্বার