June 16, 2021, 7:12 pm

creativesoftbd.com

যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ সেতু সংস্কার হচ্ছে

ঢাকা: স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর প্রাণ ফিরে পাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এলেঙ্গা- ভুয়াপুর -চরগাবসারা সড়ক। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত এই সড়কের ১০টি সেতু এবং একটি কালভার্ট পুনঃনির্মাণ করা হবে। সেই সঙ্গে প্রশস্তও করা হবে সড়কটি। ফলে বঙ্গবন্ধু সেনানিবাস ও ময়মনসিংহ সেনানিবাসের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। তাছাড়া যমুনা সার কারখানায় উৎপাদিত সার সারা দেশে পরিবহন এবং শেরপুর নাকুগাঁও স্থলবন্দরকে এই সড়কের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এ উদ্যোগটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। চলতি বছর থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে সড়কটি উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা  জানান, ‘এলেঙ্গা- ভুয়াপুর-চরগাবসারা সড়কে ১০টি ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ও ১টি কালভার্ট পুনঃনির্মাণ এবং আঞ্চলিক মহাসড়কটি উন্নয়ন’ নামের এ প্রকল্পটি প্রস্তাব করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এরপর প্রকল্পটি নিয়ে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বেশ কিছু সুপারিশ দেয়া হয়েছিল। সে সব সুপারিশ বাস্তবায়ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুর্নগঠন করা হলে প্রকল্পটির প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করা হয়। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন হচ্ছে প্রকল্পটি।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এলেঙ্গা- ভুয়াপুর-চরগাবসারা গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক। আঞ্চলিক মহাসড়কটি টাঙ্গাইল এলেঙ্গা নামক স্থানে বঙ্গবন্ধু সেতু অ্যাপোচ সড়ক থেকে শুরু হয়ে ভূঞ্চাপুর চরগাবসারা নামক স্থানে সমাপ্ত হয়েছে। এই সড়কের দৈর্ঘ্য ২২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, যার মধ্যে ১০টি ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ও একটি কালভার্ট রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই সড়কের সেতুগুলোর স্প্যান পাকবাহিনীর চলাচল বন্ধ করার জন্য বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরবর্তীতে এই স্থানে বেইলি সেতু দিয়ে যান চলাচলের সাময়িক ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে এই বেইলি সেতুগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ১০টি সেতু ও একটি কালর্ভাট পুনঃনির্মাণসহ প্রস্তাবিত প্রকল্পের সড়কটির বিদ্যমান প্রস্থ ৫ দশমিক ৫০ মিটার হতে ৯ দশমিক ১২ মিটার প্রস্থে উন্নীতকরণ এবং সড়কটিকে আঞ্চলিক মহাসড়কের যথাযথমানে উন্নীতকরণ করা প্রয়োজন। যমুনা সার কারখানার উৎপাদিত সার সারাদেশে সরবরাহ করার জন্য সড়কাংশ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে।

এছাড়াও বর্তমান সরকারের সম্প্রতি ঘোষিত ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে জামালপুরে একটি অঞ্চল রয়েছে, যা এই সড়কের মাধ্যমে সংযুক্ত রয়েছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সেনানিবাস ও ময়মনসিংহ সেনানিবাসের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ শেরপুর নাকুগাঁও ল্যান্ডপোর্টও এই সড়কের মাধ্যমে সংযুক্ত রয়েছে। এ বিশাল জনপদেও যোগাযোগের জন্য এটিই মূল সড়ক এবং এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড মূলত এই সড়কটিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকার অধিকাংশ মানুষ পেশায় কৃষক এবং ব্যবসায়ী। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং অন্যান্য দ্রব্যাদিও দ্রুত ও সহজে পরিবহন করার জন্য এই সড়কটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ প্রেক্ষিতে এলেঙ্গা- ভুয়াপুর -চরগাবসারা আঞ্চলিক মহাসড়ক বিদ্যমান ১০টি সেতু ও একটি কালর্ভাট পুনঃনির্মাণ এবং আঞ্চলিক মহাসড়কটি যথাযথমানে উন্নীতকরণের জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ হতে ১০১ কোটি ১৫ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৭ সালের অক্টোবর হতে ২০২০ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বরে পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্তে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুর্নগঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত ডিপিপির প্রাক্কলিত ব্যয় ৯৬ কোটি ৭৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এলেঙ্গা-ভূঁয়াপুর-চরগাবসারা সড়কে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুগুলো পুনঃনির্মিত হবে, আঞ্চলিক মহাসড়কটি যথাযথমানে উন্নীত হবে, ঘাটাইল সেনানিবাস ও ময়মনসিংহ সেনানিবাসের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে, যমুনা সার কারখানায় উৎপাদিত সার সারাদেশে পরিবহন করা সহজ হবে।

creativesoftbd.com

     আজকের খবর বিডি কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  

জরুরি সেবা ফোন নাম্বার