June 24, 2021, 2:08 am

creativesoftbd.com

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প সবচেয়ে বড় মাদকের স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম

ঢাকা : রাজধানীর সবচেয়ে বড় মাদকের স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প। ক্যাম্পের ভেতরেই রয়েছে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, মোহাম্মাদপুর থানা কমিটির কার্যালয়। বর্তমানে সৈনিক লীগের এ অফিসে নিয়মিত আড্ডা বসে মাদক ব্যবসায়ীদের। মূলত এ অফিসকে ঘিরেই এখন  জেনেভা ক্যাম্পের পুরো মাদকের সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে।

এছাড়াও সৈনিক লীগের নাম ভাঙিয়ে বিহারিদের ঘর-বাড়ি দখল করাসহ রাস্তায় বসা দোকান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে।

আর এসব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় কাউন্সিলরের ঘনিষ্ট সহযোগী পরিচয়দানকারী ও সৈনিক লীগ মোহাম্মাদপুর থানা কমিটির  স্ব-ঘোষিত সভাপতি মোঃ গোলাম কোরাইশী।
মাদকের সিন্ডিকেট পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অপর কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী গোলাম রাব্বানীকে কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। মূলত রাব্বানীকে সামনে রেখে পুরো সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে গোলাম কোরাইশী। ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইশতিয়াক এখন কোরাইশীকে হাত করে দেদারসে চালাচ্ছে মাদকের কারবার।

ঘনবসতিপূর্ণ এই ক্যাম্পের বাইরে ও ভেতরে অসংখ্য অলি-গলি রয়েছে। অধিকাংশ গলিতেই রয়েছে মাদকের আলাদা আলাদা স্পট। ক্যাম্পে বসবাস না করলেও সবগুলো স্পট নিয়ন্ত্রণ করছে রাজধানীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইশতিয়াক। তার মনোনীত লিডাররাই নিয়ন্ত্রণ করছে প্রত্যেকটা মাদকের স্পট।

অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য ক্যাম্পের চেয়ারম্যান গোলাম জিলানী ও সৈনিক লীগের নেতা গোলাম কসাই ওরফে গোলাম কোরাইশীকে প্রতি সপ্তাহে মোটা অংকের টাকা প্রদান করে ইশতিয়াক।

সরেজমিনে দেখা যায়, সৈনিক লীগ মোড়ে কিছু তরণ-কিশোরদের ভিড়। সেখানে কিছু কিশোরদের হাতে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ইয়াবা তুলে দিচ্ছে এক ব্যক্তি। সেগুলো নিয়েই সব কিশোর বিভিন্ন গলির সামনে দাঁড়িয়ে যায়। পথচারীদের অনেকেই তাদের টাকা দিয়ে ইয়াবা কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

সৈনিক লীগ অফিসের পাশেই এক চা দোকানি জানান, এরা সৈনিক লীগের লোকজন। যে লোক তাদের হাতে ইয়াবা তুলে দিল তার নাম আজম। সৈনিক লীগ নেতা গোলাম কোরাইশীর সবচেয়ে কাছের লোক। এই মোড়ের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে মফিজ সুমন, চুসনি রাজু, কালু রহমান, ফর্মা মোস্তাকিম, পিচ্চি সাগর ও মোটকা রুবেল। এদের সহযোগিতা করে খোদ গোলাম কোরাইশী।

পরে খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে ইয়াবা তুলে দেওয়া সেই আজমের দেখা মিলে সৈনিক লীগের অফিসেই। সেখান থেকে একটু সামনে বাড়লেই এক কিশোর এ প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান ‘কি লাগবে ভাই’? তার কাছে ইয়াবার দাম জানতে চাইলে সে বলে, ‘এখন পুলিশের অভিযান চলছে। বেশি কথা বলার সময় নাই। একদাম ১৮০ টাকা। বেশি নিলে ১৬০ টাকা করে রাখা যাবে।’

ফকিরার ইমামবাড়ার পাশে দেখা গেল আরেকটি জটলা। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সেখান থেকে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিচিত ক্রেতারা ফোনে অর্ডার দিয়েছে, সেই অনুযায়ী তাদের দেওয়া ঠিকানায় মাদক পৌঁছে দিয়ে আসবে বিক্রেতারা। এর জন্য টাকা কিছুটা বেশি নেওয়া হয়। এবি ব্লকের পাকিস্তানি পান দোকান এলাকার স্পটটি চালায় ল্যাংড়া সুমন নামে একজন। তার ইয়াবা ব্যবসায় সহায়তা করে রাজা ও শাহাজাদা নামে দুই ভাই। শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইশতিয়াকের বড় ভাই রাজু, দুই ভাই মামুন ও মাহমুদ এবং আবীর ফাট্টা এই স্পটের অন্যতম ব্যবসায়ী।

এদিকে জয়নাল হোটেলের মোড়ের (তিন রাস্তার মোড়) মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ করে ইমতিয়াজ। তার অধীনে কাজ করে কোপ মনু, চার ভাই হাসিব, মনির, হীরা ও সনু এবং মুতনা আরজু গওহরের দোকান স্পটে মাদক বিক্রি করে চোর জানু ও টুনটুন। গোবরপট্টি রোডের শহীদ হোটেল এলাকায় মাদকের ডিলার চুহা সেলিমের শ্যালক রানার সঙ্গে আছে চোর নূর, শাহনাজ, আরজু, রাজু ও ময়লা সেলিম।

সৈনিক লীগ মোড়ের বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে গোলাম কসাই, মফিজ সুমন, চুসনি রাজু, কালু রহমান, ফর্মা মোস্তাকিম, পিচ্চি সাগর ও মোটকা রুবেল। মুরগিপট্টিতে আছে সৈয়দপুরী নওশাদ, মাউরা রাসেল, বাবু, রাজা, ভাতিজা রুবেল ও শমসদ। মাছপট্টিতে রয়েছে লম্বু আজিজ ওরফে হান্ড্রেড আজিজ, তার বড় ভাই পোলার, বুড্ডা রাজু ও জনি।

দেশব্যাপী জোরদার মাদকবিরোধী অভিযানের সময় এই ক্যাম্পেও কয়েক দফায় বড় অভিযান চালানো হয়। তারপরও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি মাদক ব্যবসা।

সর্বশেষ করোনাকালে প্রশাসনিক নজরদারির শিথিলতার সুযোগে মাদক ব্যবসায়ীরা আবারো তৎপর হয়ে ওঠেছে। তবে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ফাঁকি দিতে মাদক বিক্রির সময় আর স্পট বদলে ফেলা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, গোলাম কোরাইশী তার এই মাদক সিন্ডিকেটটি দেখাশুনা করছে গোলাম রাব্বানী। গোলাম রাব্বানী ক্যাম্পের চেয়ারম্যান জিলানীর ছেলে। জিলানীও মাদক ব্যবসার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্টন বলেন, ‘আমার জানা মতে সে মাদক ব্যবসায় জড়িত না। তবে মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দেয় কি না তা জানিনা।’

এক প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলর বলেন, ‘গোলাম রাব্বানী তার সহযোগী হয়ে থাকলে রাব্বানী ওই ক্যাম্পের মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত রয়েছে। গোলাম কোরাইশীর রাজনৈতিক পরিচয় সে সৈনিক লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে জানি।’

থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘গোলাম কোরাইশীর বিরুদ্ধে সরাসরি মাদক ব্যবসার কোনো অভিযোগ এখনো আসেনি। তবে মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দেন কি না এ বিষয়টা তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়। আমরা জেনেভা ক্যাম্পের মাদক নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে চেকপোস্টও বসিয়েছি। আমরা তদন্ত করব গোলাম কোরাইশী যদি মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টারের প্রমাণ পাই তবে অবশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

এদিকে মাদক ব্যবসায়ীদের মদত দেওয়ার বিষয়ে সৈনিক লীগ মোহাম্মাদপুর থানার স্ব-ঘোষিত সভাপতি গোলাম কোরাইশীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে এ সব অভিযোগ সত্য নয়। ক্যাম্পের কিছু লোকজন শত্রুতা করে আমার বিষয়ে অভিযোগ দিচ্ছে। গোলাম রাব্বানী ক্যাম্পের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী তার সঙ্গে বিশেষ সখ্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। উল্টো তার বিরুদ্ধে নিউজ না করার প্রস্তাব দেন।

 

 

সুত্রঃ সোনালীনিউজ

creativesoftbd.com

     আজকের খবর বিডি কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  

জরুরি সেবা ফোন নাম্বার