July 30, 2021, 1:19 pm

creativesoftbd.com
শিরোনামঃ

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দয়ার দিকে তাকিয়ে মমিনরা

বিশেষ প্রতিবেদন ঃ

ছেলেটির নাম আব্দুল মমিন, বাড়ী নেত্রকোনার দূর্গাপুর থানার চন্ডিগর গ্রামে। বাবার নাম মৃত আশ্রাফ আলী। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে মমিন সবার ছোট। আজ থেকে প্রায় বছর আগের কথা। বন্ধুদের সাথে খেলা-ধুলা করতে গিয়ে দূর্ঘটনায় একটি হত্যা মামলার আসামি হয়। তখন সে ১৬ বা ১৭ বছরের কিশোর হবে। কিন্তু কিশোর আইনে বিচার হয়নি তার।
সালে ঐ মামলায় তাকে  ৩১ বছরের সাজা দেওয়া হয়।   এ পর্যন্ত ৫টি হাসপাতালে বিভিন্ন শারিরীক সমস্যার কারনে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। বেশ কয়েকটি জেলও ঘুরেছেন তিনি। সব জায়গায়তেই তার আচার ব্যবহার এর সুনাম রয়েছে। খুবই কর্মঠ, বিনয়ী ব্যবহার ও রুচিশীল ব্যক্তিতের অধিকারী এই ব্যক্তির কোন  প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও  কারান্তালে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি বই পড়েছেন।

গার্মেন্টস ও সেলাই এর কাজে রয়েছে নিপুন দক্ষতা। তাছাড়াও তিনি বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি সহায়তায় হাতে কলমে শিখেছেন কুটির শিল্পের নানা কাজ। দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দী থেকেও তার এমন অর্জন সকলের কাছে প্রশংসিত।

অন্য সব কয়েদীদের কাছে মমিন একটা দৃষ্টান্ত।  তার জেল জীবনের শিক্ষাই হয়তো তার ভবিষ্যৎ জীবনে জীবিকার অন্যতম উপায় হতে পারে।
মমিনের এই মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করতে সময় এবং দক্ষ লোকের অভাবে যথা সময়ে উচ্চ আদালতে আপিল করে সাজা কমাতে পারেননি তার পরিবারের লোকজন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিচারিক ব্যবস্থার বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকার কারনে তার পরিবার উচ্চ আদালতের রায় পেতে ব্যর্থ হন।

সাজা কমার আশা যখন ক্রমেই শেষ হচ্ছিল ঠিক তখনই আবার আশার আলোর বার্তা তাদের নিভে যাওয়া স্বপ্নের দুয়ারে এসে করা নাড়ে।

বর্তমান সরকারের শাসনামলে ৫৬৯ ধারার  এই আইন পাশ করা হয় এবং কার্যকর ও করা হয়।
কারা বিধির ৫৬৯ ধারা অনুযায়ী  বন্দীরা রাষ্ট্রপতির কাছে মুক্তির আবেদনের সুযোগ পায়।
মমিনের মত এমন অসংখ্য দন্ড প্রাপ্ত আসামি রাষ্ট্র পতির কাছে মুক্তির জন্য  দরখাস্ত করেন।
কারাবিধির নিয়ম অনুযায়ী মমিন  ২৪ বছর সাজা ভোগ করেছেন। কারা বিধির ১ম খন্ডের ৫৬৯ ধারায় মুক্তির প্রস্তাবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট দরখাস্ত করেছিলেন তিনি।
বর্তমান সরকারের শাসনামলেই  দেশের বিভিন্ন জেল থেকে অনেক আসামিকে কারা বিধির ১ম খন্ডের ৫৬৯ ধারার ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতায় মুক্তি দেওয়া হয়।  এদের মধ্যে কয়েকজন হলেন কেন্দুয়ার হবুল ও তার মামলার সকল পার্টনাররা,  জামালপুরের মোস্তফা এবং সরিষাবাড়ীর রফিক সহ আরো অনেকেই।

২০১৪ সালের পর ঐ একই ধারায় আবেদনকারীদের  পর্যায়ক্রমিকভাবে  মুক্তি দেওয়ার কথা থাকলেও ঠিক কি কারণে ঐ সব  বন্দিদের মুক্তি  দেওয়া হচ্ছে না বা আদৌ দিবে কিনা সেই ব্যপারে এখনও সরকারের পক্ষ থেকে কোন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি বা কবে নাগাদ হবে এই ব্যপারে কোন খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়নি।

২০১৪ সালের পর উক্ত  আইনের আওতায়  কাউকে মুক্তি না দিলেও অল্প কিছুদিন আগে ২০১৮  যাবজ্জীবন দন্ড প্রাপ্ত আসামি তোফায়েল আহম্মেদ জোসেফকে মুক্তি দেওয়া হয়। উক্ত ধারার আওতায়  ডিউ প্রসেসে মার্সিপিটিশন এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির অনুৃমতিক্রমে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় । এই খবর গনমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই  অপেক্ষামান বন্দীরা আবারও নতুন করে  বাচাঁর  স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। জোসেফের মুক্তির পর গনমাধ্যমে ব্যপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টিও হয়ছিল। কিন্তু তাতে কোন সুফল পাননি আওতাধীন বাকী বন্দীরা।
বেশ কিছুদিন ধরেই গাজীপুর জেলে কেয়েদি  (মমিন) এর বড় ভাই খোকন এর তথ্যে
আজকের খবর বিডির বিশেষ প্রতিনিধি দল বাকী বন্দীদের বর্তমান পরিস্থিতি জানতে বেশ কয়েকটি জেল পরিদর্শন করে, তাদের জীবন এবং উক্ত বিষয় সম্পর্কে  তথ্য সংগ্রহ করে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেঃ

দীর্ঘকাল কারাভোগ করার অভিজ্ঞতা হয়তো কতটা লোমহর্ষক কেবল তারই বলতে পারবেন।
মা-বাবা, ভাই-বোন নেই বন্ধু বান্ধব বা নিকটতম কোন স্বজন নেই সেই চারদেয়ালে যেখানে নিজেকে জীবন্ত লাশ ছাড়া অন্য কিছু মনে হয়না। কেউ বলে না মায়ের মত মমতাময়ী কথা, বাবার শাসন,  স্ত্রী -সন্তানের কথা ভাবতেই চোখ জ্বলে ভরে যায়। এত বছরে কত কিছু বদলে গেছে । শুধু বদলায়নি ওদের অবস্থা। একটু ভালো খাবার খেতে পারেনি হয়তো অনেক বছর। কালো চুলগুলো পেকে সাদা হয়ে গেছে অনেকের। কত জনের মা-বাবা,  ভাই-বোন, আদরের সন্তান আর প্রিয়তম স্ত্রী মারা গেল সেই সংখ্যা আমাদের জানা নেই। জানাজা দেওয়া তো দূরের কথা শেষ বারের মত না দেখতে পারার যে কি কষ্ট তা কেবল তাদেরই জানা। এক বেলা একটু ভাল খাওয়ার জন্য দেশের বিশেষ দিনের অপেক্ষায় থাকেন। বেঁচে থেকেও যেন পৃথিবীর কাছে মৃত !!!
শারিরিক অনেক সমস্যা সহ মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। এদের বেশির ভাগ  দ্বারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করেন। এসব বন্দীরা আইনের বেড়া জালে সহায় সম্বল সব হারিয়ে  শারীরীক ও মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘকাল বন্দীথাকার কারনে ডায়াবেটিকস, হ্রদরোগ, চর্মরোগ সহ আরো নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন সংকটে ভুগছেন। ফ্যাকশে চোখে একটাই স্বপ্ন একটাই আশা বুকে নিয়ে আছেন। থমকে থাকা পৃথিবী থেকে কবে মুক্ত পৃথিবীতে পৌঁছে দেওয়ার দূত হবেন  মহামান্য রাষ্ট্রপতি!
তাদের জীবনের শেষ চাওয়ার পূর্ণতা হবে কি?
নতুন করে নতুন জীবনের আশায় বুক ভরা স্বপ্ন  নিয়ে চাতকের মত রাষ্টপতি এবং সরকারের  দয়ার দিক তাকিয়ে মুক্তির প্রহর গুনছে মমিনের মত আরো নাম না জানা অসংখ্য কারাবন্দীরা।
তাদের একটাই দাবী ” হে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং  প্রধানমন্ত্রী আপনাদের দয়ার অপেক্ষায় ”

creativesoftbd.com

     আজকের খবর বিডি কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  

জরুরি সেবা ফোন নাম্বার