স্টাফ রিপোর্টারঃ

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ করার দাবিতে পদবঞ্চিত ও পদপ্রত্যাশী অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। গত মঙ্গলবার ঢাকা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তারা এই কর্মসূচি পালন শুরু করেন।
প্রথম দিন তারা ‘কাফন মিছিল’ করে নিজেদের দাবি জানানোর পর অনশন শুরু করেন। দাবি না মানা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ নাদির শাহ পাটওয়ারী।
দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি আংশিকভাবে ঘোষণা করা হলেও অনেক জেলায় এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ বাকি রয়েছে।
অনেক নেতাকর্মী অভিযোগ করেছেন, কমিটি গঠনে সিনিয়রিটি, ত্যাগ ও যোগ্যতার চেয়ে “ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ” ও “দলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক”কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে বহু ত্যাগী নেতা বাদ পড়েছেন—যাদের কেউ কেউ এক দশকের বেশি সময় ধরে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে বিএনপির উচ্চপর্যায়ে কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে।
একটি অংশ মনে করে—পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করলে সংগঠনের ভেতর নতুন অসন্তোষ ও বিভক্তি তৈরি হতে পারে, যা আন্দোলনপর্বে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অন্য অংশের যুক্তি, দীর্ঘদিনের বঞ্চিত নেতাদের সুযোগ না দিলে সংগঠনের মাঠপর্যায়ের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।
তবে ছাত্রদলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন,
“দল এখন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের পর্যায়ে রয়েছে। এই সময় সংগঠন পুনর্গঠনের চেয়ে মাঠের ঐক্য ধরে রাখাই মূল লক্ষ্য। তাই কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গের বিষয়টি এখনই অনুমোদন পাবে না।”
অনশনরত একাধিক নেতাকর্মী বলেন—
“আমরা কোনো ব্যক্তির পদ নয়, সংগঠনের ন্যায্যতা ও কাঠামোগত স্বচ্ছতার দাবিতে অনশন করছি। দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করা হচ্ছে। দাবি না মানা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।”
তারা আরও জানান,
“জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা আন্দোলন করছি, কারণ ছাত্রদল আমাদের পরিচয় ও আত্মসম্মানের জায়গা। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হলে সংগঠনের ভিত দুর্বল হবে।”
বিএনপি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না।
দলীয় সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে—দাবি আংশিকভাবে মেনে আনা হতে পারে, তবে সম্পূর্ণ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার আগে আরও সময় লাগবে।
সমাপনী মন্তব্য:
ছাত্রদলের ভেতরে এই ধরনের অনশন ও ক্ষোভ নতুন নয়। প্রতি কমিটি ঘোষণার পর এমন বঞ্চিতদের প্রতিবাদ সামনে আসে।
তবে এবার বিষয়টি “আমরণ অনশন” পর্যায়ে যাওয়ায় এটি দলের জন্য বড় ধরনের সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।