গাজীপুর সংবাদ:

গাজীপুর মহানগরের টংগী পশ্চিম থানার তাতি দল বর্তমানে অভ্যন্তরীণ বিভ্রান্তি ও বিতর্কের মুখে। স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ অনুযায়ী, মহানগর সভাপতি তাজু বেপারী একাধিক সংগঠনবিরোধী, শৃঙ্খলাভঙ্গকারী ও বিতর্কিত পদবিন্যাস করেছেন।
প্রথমে, মোঃ খোকন মিয়া-র বিষয়ে অভিযোগ ওঠে। তিনি স্থানীয়ভাবে “ইয়াবা খোকন” নামে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, অপহরণ, নারী নির্যাতন ও জমি দখলসহ ৭টি প্রধান মামলা রয়েছে। মামলা নম্বর ও সাল অনুযায়ী তালিকা:
2018 – মাদক (ইয়াবা/গাঁজা) – টংগী পশ্চিম – মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন – তদন্ত/চার্জশিট
2019 – অস্ত্র – গাজীপুর – অস্ত্র আইন – জামিন
2020 – চাঁদাবাজি – টংগী – দণ্ডবিধি – চলমান
2021 – অপহরণ – টংগী – দণ্ডবিধি – তদন্তাধীন
2022 – জমি দখল – গাজীপুর – দণ্ডবিধি – চলমান
2023 – নারী নির্যাতন – গাজীপুর – নারী ও শিশু আইন – তথ্য যাচাই প্রয়োজন
2024 – মাদক (গাঁজা উদ্ধার) – টংগী – মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন – গ্রেফতার (গণমাধ্যম)
টংগী পশ্চিম থানা, 52 নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রনেতা মাসুম শিকদার প্রথমবার খোকন মিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে বিষয়টি সংবাদে আসে। খোকন মিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সরব থাকেন।
সাবেক সভাপতি শেখ মোহাম্মদ আলেক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, বর্তমান সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান নূর, এবং অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী নেতৃবৃন্দ খোকন মিয়া বহাল রাখার সিদ্ধান্তের প্রতি আপত্তি জানিয়েছেন।
তাজু বেপারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে আরও বিতর্কিত পদবিন্যাস করেছেন:
টংগী পশ্চিম থানার জজ মিয়া-কে অর্থের বিনিময়ে নগর তাতি দলের সহ-সভাপতি পদে নিয়োগ।
নিজের ছোট ভাইকে মাদক ব্যবসার সাথে যুক্ত থাকার পরও পদবিন্যস্ত করার অভিযোগ।
নজরুল ইসলামকে পূর্ব থানার সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ এবং আরও অর্থের বিনিময়ে পদবিন্যাস।
শাহ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, যিনি পূর্বে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি, কেবল নৌকার পক্ষে ভোট প্রদান করেছিলেন, এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সত্ত্বেও পুনর্বাসন করা হয়েছে।
স্থানীয় নেতাদের মতে, এই পদবিন্যাস ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাজু বেপারী দলের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থা বিপন্ন করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সতর্ক পদক্ষেপ ছাড়া দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তাই স্থানীয় ও মহানগর নেতারা দাবি করেছেন:
১. খোকন মিয়া ও বিতর্কিত নেতাদের সকল পদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার।
২. তাজু বেপারীর বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী কার্যক্রমের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত।
৩. দলের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং তৃণমূলের আস্থা পুনঃস্থাপন।
সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিলে গাজীপুর মহানগর তাতি দলের শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন সম্ভব হবে।