🔴 ব্রেকিং নিউজ: আজকের খবর বিডি - সর্বশেষ আপডেট জানতে আমাদের সাথেই থাকুন | গাজীপুরসহ সারাদেশের খবর দ্রুত পান
গাজীপুরে রাস্তা দখল করে ভ্যান দোকানের দৌরাত্ম্য: কারা নেয় চাঁদা? নতুন প্রশাসক জানেন কি? - সত্য প্রকাশে আপোষহীন মাধ্যম

গাজীপুরে রাস্তা দখল করে ভ্যান দোকানের দৌরাত্ম্য: কারা নেয় চাঁদা? নতুন প্রশাসক জানেন কি?


প্রকাশের সময় : মার্চ ৯, ২০২৬, ১:৪৮ পূর্বাহ্ন ০
গাজীপুরে রাস্তা দখল করে ভ্যান দোকানের দৌরাত্ম্য: কারা নেয় চাঁদা? নতুন প্রশাসক জানেন কি?

স্টাফ রিপোর্টর :

গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে রাস্তা দখল করে অবৈধ ভ্যান দোকানের সংখ্যা। বিশেষ করে টঙ্গী কলেজ গেট থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কে এখন যেন ভ্যান গাড়িতে দোকান বসানোর এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। জামাকাপড়, সবজি, ফলমূল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্যের দোকান বসিয়ে রাস্তার বড় অংশ দখল করে রাখা হচ্ছে প্রতিদিন।

এতে করে যেমন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, তেমনি ঝুঁকির মুখে পড়ছে সাধারণ মানুষের চলাচল। শুধু তাই নয়, প্রতিটি ভ্যান গাড়িতে বসানো হয়েছে উচ্চ শব্দের হ্যান্ড মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম। দিনভর ননস্টপ বিজ্ঞাপন ও চিৎকারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব ভ্যান দোকান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেই টাকার একটি অংশ স্থানীয় থানা পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং বাকি অংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা ভাগ করে নেয়।

শুধু টঙ্গী কলেজ গেট থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত এই অবৈধ দোকানগুলো থেকে মাসিক চাঁদা ওঠে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। প্রশ্ন উঠছে—এই বিপুল অঙ্কের অর্থ কার পকেটে যাচ্ছে?

অন্যদিকে আশপাশে থাকা বৈধ মার্কেটের দোকানিরা বলছেন, তারা সিটি কর্পোরেশনের ট্যাক্স, দোকানের অগ্রিম, কর্মচারী খরচসহ নানা ব্যয় বহন করে ব্যবসা চালাচ্ছেন। অথচ রাস্তার ওপর বসা অবৈধ ভ্যান দোকানগুলো একই পণ্য দুই ভাগ কম দামে বিক্রি করে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে। ফলে বৈধ ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

এ অবস্থায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব কোথায়? রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা কি তাদের দায়িত্ব নয়?

আইন অনুযায়ী, ফুটপাত বা সড়ক দখল করে ব্যবসা করা সম্পূর্ণ অবৈধ। সিটি কর্পোরেশন আইন অনুযায়ী এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার ক্ষমতা এবং দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের। তাহলে কেন এই অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?

আরও বড় প্রশ্ন—৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যেখানে অবৈধ দখল কমার কথা ছিল, সেখানে কেন তিন থেকে চার গুণ বেড়ে গেল?

বর্তমান প্রশাসকের কাছে নগরবাসীর দাবি স্পষ্ট—
রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে কবে?
চাঁদাবাজি বন্ধে কি কোনো অভিযান হবে?
নাকি শক্তিশালী কোনো চক্রের কারণে প্রশাসন নীরব?

গাজীপুরবাসী এখন উত্তর চায়। কারণ একটি শহরের সভ্যতা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব।