গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক বাবু পন্ডিতের মৃত্যু ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে—দীর্ঘদিন দল ও আন্দোলনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা এই সহযোদ্ধা যখন দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন, তখন দলের কোনো প্রভাবশালী নেতা বা আর্থিকভাবে সক্ষম কর্মী তার পাশে দাঁড়ায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবু পন্ডিত ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ ছাত্রদল নেতা। আন্দোলন-সংগ্রামে সবসময় সামনের সারিতে ছিলেন তিনি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোতেও তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে এসে তাকে একাই লড়াই করতে হয়েছে কঠিন রোগের সঙ্গে।
অভিযোগ রয়েছে, একই সময়ে দলের অনেক নেতা-কর্মী অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠেছেন। কারও ব্যাংক ব্যালেন্স বেড়েছে, কেউ নতুন গাড়ি কিনেছেন, আবার কেউ বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অথচ একজন অসুস্থ সহযোদ্ধার চিকিৎসা সহায়তা বা খোঁজ নেওয়ার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে চরম উদাসীনতা।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো—বাবু পন্ডিতের মৃত্যুর পরও দলের অনেক শীর্ষ নেতা কিংবা পরিচিত মুখের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা বা শোক প্রকাশও দেখা যায়নি। এতে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে।
তবে এই নীরবতা ভেঙে দিয়েছেন ছাত্রদলের অসংখ্য নেতা-কর্মী। বাবু পন্ডিতের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা বিদ্রোহিমূলক অসংখ্য পোস্ট দিয়ে দলের কিছু বিএনপি নেতার কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা প্রশ্ন তোলেন—একজন ত্যাগী ছাত্রদল কর্মীর জীবনের মূল্য কি এতটাই তুচ্ছ?
একই সঙ্গে ছাত্রদলের নেতারা দলের সর্বোচ্চ নেতা তারেক রহমান-এর কাছে সরাসরি প্রশ্ন রেখে জবাবদিহিতা দাবি করেছেন। তাদের দাবি—দল ও অঙ্গসংগঠনের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন ও দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, নতুবা তৃণমূলের আস্থা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়বে