🔴 ব্রেকিং নিউজ: আজকের খবর বিডি - সর্বশেষ আপডেট জানতে আমাদের সাথেই থাকুন | গাজীপুরসহ সারাদেশের খবর দ্রুত পান
টংগীতে সরকারি উপহার দিয়ে যুবদল নেতার নিজ নির্বাচনী প্রচরনা, তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর - সত্য প্রকাশে আপোষহীন মাধ্যম

টংগীতে সরকারি উপহার দিয়ে যুবদল নেতার নিজ নির্বাচনী প্রচরনা, তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর


প্রকাশের সময় : মার্চ ২২, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ন ০
টংগীতে সরকারি উপহার দিয়ে যুবদল নেতার নিজ নির্বাচনী প্রচরনা, তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর

 

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, গরমিল ও রাজনৈতিক বিতর্কের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো এসব সামগ্রী নির্ধারিত সিটি কর্পোরেশন অফিস থেকে বিতরণ না করে স্থানীয় এক যুবদল নেতার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সীমিত পরিসরে বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নেতা তার অনুসারী ও সমর্থকদের নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মাঝে এসব উপহার বিতরণ করেন এবং পরে বিভিন্ন অনলাইন ও নিউজ পোর্টালে “ঈদ উপহার বিতরণ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করান।

ঘটনাস্থলে উত্তেজনা, ভিডিও ভাইরাল

বিষয়টি জানতে পেরে টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সদস্য আসাদুজ্জামান নূর স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—
কেন সরকারি নিয়ম ভেঙে তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে বাছাইকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে উপহার বিতরণ করা হচ্ছে?

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কথিত ‘হাইব্রিড’ নেতা নাসির উদ্দিন নাসু এবং আয়োজক সেলিম কাজল, যিনি আসন্ন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রশ্নের মুখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সেলিম কাজল দাবি করেন—তিনি এসব সামগ্রী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের মাধ্যমে পেয়েছেন।

দাবির সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই

ঘটনার পর সেলিম কাজল দাবি করেন, সরকারি ১৫০ ব্যাগের পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবে আরও ৮৫০ ব্যাগ উপহার বিতরণ করেছেন।

তবে ভিডিও বিশ্লেষণ ও সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে—

বিতরণস্থলে সীমিত সংখ্যক উপহার সামগ্রী ছিল

কয়েকটি ছোট লাল ব্যাগ ছাড়া বড় পরিসরের কোনো বিতরণের দৃশ্য পাওয়া যায়নি

৮৫০ ব্যাগ বিতরণের মতো কোনো প্রমাণ ভিডিও বা ছবিতে মিলেনি

এমনকি বিভিন্ন সাংবাদিক ও স্থানীয়দের মন্তব্যেও একই চিত্র উঠে এসেছে, যা তার দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

পূর্বের অভিযোগও সামনে

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেলিম কাজলের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, নাসির উদ্দিন নাসুর বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক পক্ষপাত, নির্বাচনী প্রভাব বিস্তার এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

আইন কী বলছে?

দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, আত্মসাৎ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান দণ্ডনীয় অপরাধ।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অনৈতিক সুবিধা প্রদান দুর্নীতির আওতায় পড়ে।

নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে সরকারি সম্পদ ব্যবহার করা হলে তা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এর আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে।

বড় প্রশ্ন এখন:

১৫০ ব্যাগ না ১০০০—সত্য কোনটি?

প্রশাসকের মাধ্যমে আনার দাবি কতটা সঠিক?

কেন নির্ধারিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে ব্যক্তিগতভাবে বিতরণ করা হলো?

এটি কি নির্বাচনী প্রভাব বিস্তারের কৌশল?

এর দায় নেবে কে—প্রশাসন, নাকি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব?

পুরো ঘটনায় সেলিম কাজল ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এখন জনমনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।