
গাজীপুর প্রতিনিধি | আজকের খবর বিডি
প্রকাশিত: ৪ জুন ২০২৫
টঙ্গী, গাজীপুর:
টঙ্গীর পশ্চিম থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎবার্ষিকীর আলোচনা সভায় ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
৩ জুন ২০২৫, মঙ্গলবার বিকেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলো। সভায় সভাপতিত্ব করেন টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান নূর।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মনজুরুল করিম রনি।
অনুষ্ঠানে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল শেষে তবারক বিতরণ চলাকালে হঠাৎ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রলীগের এক নেতাকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেখে ক্ষিপ্ত হন থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক দিপু দেওয়ান।
তিনি আসিফ নামে ওই ছাত্রলীগ নেতার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুললে, বাধা দেন ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় এবং মহানগর ছাত্রদলের সহ-দফতর সম্পাদক মোবারক হোসেন রাসেল।
পরে দিপুর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন হৃদয় ও রাসেল। এক পর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক থেকে হাতাহাতিতে গড়ায় পরিস্থিতি, যা অনুষ্ঠানস্থলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন আয়োজক ও সঞ্চালক আসাদুজ্জামান নূর। তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে জানান, এই ঘটনা পরবর্তীতে দলীয়ভাবে সমাধান করা হবে।
🔍 অতীত থেকে জমে থাকা বিরোধ:
এ ঘটনায় পেছনে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সম্প্রতি গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের প্যাডে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে একটি প্রেস রিলিজ দিতে বলা হয়। দফতর সম্পাদক বোরহান যাচাই-বাছাই না করেই তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলে, আসিফের আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততার ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে।
পরে ওই পোস্ট ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দেন মোবারক হোসেন রাসেল। এ ঘটনায় দিপুকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার জের ধরে থানা ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাসুম শিকদার ও দিপু সামাজিক মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কিংবা মহানগর নেতৃত্ব থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
⚠️ সংগঠনের অভ্যন্তরে ভাঙন?
স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছেন, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মিরন এবং তার অনুসারীরা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের ব্যবহার করে দল ভারী করছেন এবং চাঁদাবাজিতেও জড়িত আছেন।
এ বিষয়েও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
🔗 সূত্র:
আজকের খবর বিডি – নিউজ রিপোর্ট লিংক
একটি পবিত্র স্মরণ সভায় এমন অনভিপ্রেত ঘটনা দলীয় শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এমন সময়েও অভ্যন্তরীণ বিভাজন ছাত্রদলের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।