🔴 ব্রেকিং নিউজ: আজকের খবর বিডি - সর্বশেষ আপডেট জানতে আমাদের সাথেই থাকুন | গাজীপুরসহ সারাদেশের খবর দ্রুত পান
টঙ্গী পাইলট:গণহত্যা মামলার আসামি,অর্থ আত্মসাৎকারী, আলাউদ্দিন—শিক্ষক হতে পারে কি? - সত্য প্রকাশে আপোষহীন মাধ্যম ্ টঙ্গী পাইলট:গণহত্যা মামলার আসামি,অর্থ আত্মসাৎকারী, আলাউদ্দিন—শিক্ষক হতে পারে কি?

টঙ্গী পাইলট:গণহত্যা মামলার আসামি,অর্থ আত্মসাৎকারী, আলাউদ্দিন—শিক্ষক হতে পারে কি?


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১, ২০২৫, ৪:০৭ পূর্বাহ্ন ০
টঙ্গী পাইলট:গণহত্যা মামলার আসামি,অর্থ আত্মসাৎকারী, আলাউদ্দিন—শিক্ষক হতে পারে কি?

নাহিদ খান-ঃ

শিক্ষকতা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম পেশাগুলোর মধ্যে একটি। শিক্ষকরা শুধু জ্ঞান প্রদান করেন না, তারা নৈতিকতা, বিবেক ও মানবতার শিক্ষাও দেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী দেখাচ্ছে, শিক্ষকতা পেশা ক্রমেই বাণিজ্যিকীকরণ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

📌টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটেছে, তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। গণহত্যা মামলায় গ্রেফতারের পর প্রায় ১৫ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণসহ তদন্তে উঠে আসে। কিন্তু জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ক্লাস বন্ধ রেখে স্কুল চত্বরকে উৎসবের মঞ্চে পরিণত করা হয়, ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং রাজনৈতিক পেজে প্রচার করা হয়।

📌এই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, শিক্ষকতা আর কেবল শিক্ষা দেয়ার মাধ্যম নয়—এটি রাজনৈতিক প্রভাব এবং ক্ষমতার ছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে। অভিভাবক ও স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, আলাউদ্দিন ও তার ভাই ইঞ্জিনিয়ার হেলাল দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত। জুলাই আন্দোলনের সময় বিরোধী রাজনীতি দমন এবং তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গণহত্যা মামলার পরও স্থানীয় আওয়ামী নেটওয়ার্ক তাকে পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনে।

📌দুর্নীতির চক্র — দোকান বরাদ্দ, মার্কেট লুটপাট, অর্থ আত্মসাৎ-
দুর্নীতির চক্রও উদ্বেগজনক। শিক্ষক জাফর আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে স্কুল মার্কেটে দোকান বরাদ্দে অনিয়ম, ভাড়া অর্থ ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় প্রবাহিত হওয়া, ভবন, দোকান ও স্পেস বরাদ্দে গোপন বাণিজ্যিক লেনদেন—all এসব অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে। তাছাড়া আলাউদ্দিন মাস্টারের রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব কতটা প্রকট ছিল তা জানা যায় অত্র প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী ও থানা ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাসুম শিকদারের অভিযোগ অনুযায়ী। তিনি জানান, সরকারি ওয়েবসাইট তৈরি করে ৫০,০০০ টাকা প্রাপ্য থাকলেও সাত-আট বছর পার হওয়ার পরও তা আজ পর্যন্ত পরিশোধ হয়নি। দাবি করলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে আলাউদ্দিন মাস্টারের দুর্নীতির বিষয়ে। এই প্রশ্নের উত্তর এখনো নীরব-
📌পূর্বের উদাহরণ: ন্যায্যতা ও বৈষম্য:-

📌স্কুলের আরও দুই সিনিয়র শিক্ষক—বশির আহমেদ (টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক) এবং আজিজুল হক রাজু মাস্টার (৫৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি)—বিগত সরকারের আমলে মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করেছেন। তারা দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করলেও তাদের রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকার কারণে আলাউদ্দিনরা তাদের সুযোগ-সুবিধা ও সম্মান প্রদানে বৈষম্য করতেন। তাদের উপরে জুলুম চালানো হতো এবং বিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হতো।

এই প্রেক্ষাপটে আলাউদ্দিনের উদযাপন, স্কুলে ফুল-মালা, করতালি ও রাজনৈতিক প্রচার কেবল একটি শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে বৈষম্যের বীজ বপন করছে। একজন শিক্ষকের বেলায় এমন উদযাপন—যিনি গণহত্যা মামলার আসামি ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত—শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, অভিভাবকদের বিশ্বাস এবং সমাজে শিক্ষকের মর্যাদার প্রতি বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করছে।

জাতীয় জনগণের জন্য মূল প্রশ্নগুলো হলো:

১. গণহত্যা মামলায় অভিযুক্ত ও দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি কি শিক্ষকতার আসনে বসতে পারেন?
২. শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নৈতিকতা ও শিক্ষার মানকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করছে?
৩. আলাউদ্দিনদের মতো ব্যক্তির কর্মকাণ্ড কি পুরো শিক্ষক সমাজের মর্যাদা হ্রাস করছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করছে?
৪. শিক্ষকতার পেশাকে চপেটাঘাত করে কোচিং বাণিজ্যের বিস্তার করে কমিশন নেয়া।
এই ঘটনা শুধু একজন শিক্ষক নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক অবক্ষয়, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাবের পূর্ণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। শিক্ষাঙ্গনের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার্থীর নৈতিক শিক্ষার জন্য এখনই সঠিক জবাব প্রয়োজন।