স্টাফ রিপোর্টারঃ

আফরিন সুলতানা, যিনি পরিচিত প্রিয়মনি নামে—তার জীবন ঘিরে রয়েছে একাধিক অভিযোগ, বিতর্ক এবং দ্রুত উপরে ওঠার এক চাঞ্চল্যকর গল্প। তার জীবনকথা অনেককেই বিস্মিত করে।
সূত্র মতে, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার একটি নিম্নবিত্ত পরিবারে তার জন্ম। চার বোনের মধ্যে তিনি একজন। উন্নত জীবনের আশায় ঢাকায় এসে ইডেন কলেজে পড়াশোনা শুরু করেন। সেই সময় জামালপুরের আতিক নামের এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে বিয়েতে রূপ নেয়।

তবে ঢাকার ঝলমলে জীবন, ক্ষমতার বলয়ের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ এবং ছাত্ররাজনীতির পরিবেশ ধীরে ধীরে তাকে ভিন্ন পথে টেনে নেয়। লাবনী নাম ছেড়ে তিনি পরিচিত হন প্রিয়মনি নামে। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পথচলার শুরু হয় রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপুর মাধ্যমে—এমনটাই বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়।
এ সময় তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা টিপুর পারিবারিক জীবনে অস্থিরতা তৈরি করে বলেও কথিত আছে। এর মধ্যেই প্রিয়মনি রাজনৈতিক পদ-পদবি ও প্রভাবের প্রতি গভীরভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ ওঠে। সেই সময় তার ব্যক্তিগত ও দাম্পত্য জীবনে গুরুতর সংকট সৃষ্টি হয় বলে জানা যায়। কয়েক মাস পর, অভিযোগ রয়েছে যে তিনি স্বামী আতিকের নগদ অর্থ ও কিছু স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান।
এই ঘটনায় স্বামী আতিক একটি চুরির মামলা দায়ের করলে, ওই মামলায় তিনি জামালপুরে সাত দিন কারাভোগ করেন এবং পরবর্তীতে আপোষের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পরপরই তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এখান থেকেই শুরু হয় প্রিয়মনির জীবনের নতুন অধ্যায়—যা নিয়ে পরবর্তীতে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তার চার বোনের স্বামীরা অধিকাংশই প্রবাসে বসবাস করেন। বড় ভাইয়ের মৃত্যুও পরকীয়া সংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে।
২০১৮ সালে তিনি ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে নিজের বৈবাহিক অবস্থা গোপন রাখার অভিযোগে তাকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বিষয়টি তখন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে ‘ইন্ডিয়া টুডে’, যা পরবর্তীতে বাংলা ট্রিবিউনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এরপর থেকেই প্রিয়মনির নাম ঘিরে নানা আলোচনা ও অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পদ-পদবি অর্জনের জন্য তিনি ঢাকার বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, দামি মোবাইল ফোন ও গাড়ি হাতিয়ে নেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই সব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধান এখনও চলমান।
বাকি অংশ জানতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।