বিশেষ প্রতিবেদনঃ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে এক তরুণকে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই তরুণ উল্টো পথে গাড়ি চালাতে চাইলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য তাকে বাধা দেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ঘটনাটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ির ড্রাইভিং সিটের পাশ থেকে নেমে আনুমানিক ১৮–২২ বছর বয়সী এক তরুণ পুলিশের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন এবং বলেন—
“গাড়ি এখান দিয়েই যাবে, না হলে গাড়ি এখানেই থাকবে।”
এ সময় ‘সালাম’ নামের এক ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয় বলেও দৃশ্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে পুলিশ সদস্যরা তাদের দায়িত্ব থেকে সরে না এসে গাড়িটি রেকারিং (জব্দ) করার সিদ্ধান্ত নেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে গাড়ির ড্রাইভিং সিট থেকে নেমে আসেন মুখে মাস্ক পরা এক নারী। তাকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। এই নারীকে ঘিরেই পরবর্তীতে শুরু হয় সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও বিতর্ক।
পরিচয় ও প্রাথমিক অনুসন্ধান:
আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিডিওতে আলোচিত তরুণের নাম লিসান তামিম, যিনি ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যাচ্ছে।
এছাড়া, তার সঙ্গে থাকা নারী হিসেবে যাকে দেখা গেছে, তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপসংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে একাধিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।

অভিযোগ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য:
আমাদের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, আফরিন সুলতানা লাবনী ওরফে ‘প্রিয় মনি’–এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে চুরি ও প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ ঘিরে ইতোমধ্যে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য আমাদের হাতে এসেছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

এছাড়াও, ভাইরাল বাকবিতণ্ডার ঘটনার সময় লিসান তামিম ‘সালাম’ নামে প্রশাসনের একজন ব্যক্তির পরিচয় দিলেও তার বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আরও যাচাই-বাছাই চলছে।
অনুসন্ধানে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। সূত্র অনুযায়ী, প্রিয় মনির পারিবারিক পটভূমি নিম্ন-মধ্যবিত্ত হলেও, তার বর্তমান জীবনযাপন, চলাফেরা ও সামাজিক উপস্থিতিতে অস্বাভাবিক বিলাসিতা লক্ষ্য করা যায়—যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য প্রিয় মনি ও লিসান তামিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
আফরিন সুলতানা লাবনী ওরফে প্রিয় মনির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, তার রাজনৈতিক পরিচয়, আর্থিক কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
চাঞ্চল্যকর সব তথ্য জানতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন —
আজকের খবর বিডি